শনিবার,১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অর্থ আত্মসাত ও প্রতারনার দায়ে গ্রেফতার ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যান

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১
news-image

নাসরিন পারভীন: গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে গুলশান থানায় এক ভূক্তভোগী প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির সিইও রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ এর অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা হতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির সিইও মোঃ রাসেল (৩৭) এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন (৩৫), ঢাকাদ্বয়’কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার বিভিন্ন বিষয়াদি ও কৌশল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।আজ দুপরে র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে সাংবাদ সন্মেলন করে এমনটাই বলেছেন র‍্যাবের গণমাধ্যম কর্তা পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি আরো বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে ইভ্যালি’র ব্যবসায়িক কারসাজি দেশব্যাপী একটি বহুল আলোচিত বিষয়। কারসাজির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পণ্য ডেলিভারী না দেওয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। ইভ্যালি প্লাটফর্মে প্রতারিত হয় সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন লোভনীয় গগনচুম্বী অফার দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বেশ কয়েকটি সংস্থা ইভ্যালি’র ব্যবসায়িক কাঠামো নিয়ে পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানিজ্য মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন আলোচনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। এই প্রতিষ্ঠানটির ই-কমার্সের নামে নেতিবাচক ব্যবসার ফলে আজ দেশব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতারিত। গ্রেফতারকৃত মোঃ রাসেল’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, একটি বিদেশী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় অফার (১ঃ২) এর আলোকে ইভ্যালির ব্যবসায়িক স্টাটিজি তৈরী করেছেন। ব্যবসায়িক ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, প্রথমত একটি ব্রান্ড ভ্যালু তৈরীর পরিকল্পনা করা হয়। অতঃপর দায়সহ কোন প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোম্পানীর নিকট বিক্রি করে লভ্যাংশ নিয়ে নেওয়া। এ উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন দেশও ভ্রমণ করেছেন। অন্যান্য পরিকল্পনা সমূহের মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর নিকট কোম্পানী শেয়ারের অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করে দায় চাপিয়ে দেওয়া। এছাড়া তিন বছর পূর্ণ হলে শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভূক্ত হয়ে দায় চাপানোর পরিকল্পনা নেন। তিনি জানান যে, দায় মেটাতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বৃদ্ধি করার আবেদন একটি অপকৌশল মাত্র। সর্বশেষ তিনি দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে “দেওলিয়া ঘোষণার” পরিকল্পনা করেছিলেন।